
হেরো
কোর্টের রায়ে একবার চাকরি যায়। একবার ফিরে আসে। যাওয়া আসায় ক্লান্ত মলয় জানলার সামান্য বাক্স মতো জায়গাটায় বসেছিলো অবসন্নভাবে।
জানলার গা ঘেঁষে রাস্তা। পবন দোকানে যাচ্ছে বাইক হাঁকিয়ে। পৈতৃক ভাগবাটোয়ারায় সোনা-রুপোর দোকানের একটা চিলতে ভাগ পেয়েছে।
মলয়ের বাড়ির প্রায় উল্টোদিকে বাড়ির বারান্দায় দাঁড়িয়ে ভ্রমর। তাকিয়ে আছে আয়ত চোখ মেলে।পবন আচমকা দাঁড়িয়ে গেলো মলয়ের জানলার সামনে।
‘তোর চাকরিটা গেলো তাহলে। দেখ, ওসব চাকরি বাকরিতে লাভ কিছু নেই। গরমেন্ট চাকরি দেবেওনা। ব্যবসা কর। কতবার বলেছি ‘। মলয় বুঝতে পারেনা এই গায়ে পড়ে কান্নাকাটির মানে।
পবন বুঝতে পারে মোক্ষম জায়গায় লেগেছে তীর। অর্থাৎ ভ্রমর বারান্দা থেকে ঘরে ঢুকে পশ্চিমের জানলায় দাঁড়িয়েছে এসে। মলয়দের বাড়ির সামনের রাস্তাটা ঘুরে ভ্রমরদের বাড়ির পিছন দিয়ে চলে গেছে বাজারের দিকে।পবন বাইক হাঁকিয়ে যেতে যেতে ভালো করে দেখে নেয়। ভ্রমরের আয়ত চোখে বসন্ত গুনগুন করছে।

সোনার দাম লাখ ছুঁইছুঁই। হাঁড়িতে চাল বাড়ন্ত থাকলে কেউ সোনার দোকানে যায়না। বিয়েসাদি লাগলো তো হালকা প্যাতপেতে গয়না, ব্রোঞ্জের চুরি। জিএসটি আছে। তোলা দিতে হয়। বাজার কমিটিকে টাকা দিতে হয়। মাঝে মাঝেই বাইক রেখে চুপিসারে সাইকেলে দোকানে যায় পবন।
ভ্রমরের বিয়ে। জানলার সামান্য বাক্স মতো জায়গায় বসে আছে মলয়। বাইকটা স্ট্যান্ডে হেলান দিয়ে রেখে সিটের ওপর বসে আছে পবন। বাতাসে পদাবলির সুর। ‘আমার বধূয়া আনবাড়ি যায় আমার আঙিনা দিয়া’।
‘চাকরিটা শেষমেষ হলো বটে কিন্তু মামলা আর ঘুষের টাকা জোগাতে ভিকিরি হয়ে গেছি রে’।
‘ছোটো ব্যবসাদাররা ফিনিস। এদেশে আর বাঁচার উপায় নেই।’
দুই বন্ধুই উদাস চোখে চেয়ে আছে। ভ্রমরদের বাড়ির জানলা, বারান্দা সর্বত্র পরাজয় লেখা। হেরো মলয়,হেরো পবন, দুজনেই দেখার চেষ্টা করছে। জিতলো কে!

বেশ।
❤️
❤️
খুব সুন্দর গল্প। এই সময়ের দলিল।